শ্রমবাজারের সঙ্গে শিক্ষার অসঙ্গতিতে বাড়ছে বেকারত্ব
অপর্যাপ্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সেকেলে পাঠ্যক্রম এবং শ্রমবাজারের দক্ষতার চাহিদার সঙ্গে অসঙ্গতির কারণে যুব বেকারত্ব জাতীয় গড়ের প্রায় তিনগুণ। ফলে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা যুবকদের সুযোগ সীমিত করে তুলছে। ডিজিটাল বিভাজন ও অকার্যকর উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি যুবকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, একই সঙ্গে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণকে যুগোপযোগী করে তোলা, যুব উদ্যোগ উন্নয়নে সহায়তা প্রদান এবং নীতিনির্ধারণে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ন্যায়সঙ্গত, সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে যুবশক্তির ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। দেশের টেকসই অগ্রগতির নেতৃত্বের লক্ষ্যে তরুণদের ক্ষমতায়নের রূপরেখা ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে এই আয়োজনে একত্রিত হন নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন কর্মী এবং যুব প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেম-এর গবেষণা সহযোগী ইকরামুল হাসান।
বেকারত্বকে দেশের অন্যতম সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মকসুদ জাহেদী বলেন, ‘প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ই কোনো না কোনোভাবে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য কাজ করছে। আমরা চাচ্ছি বেকারত্বের হার কমানোকে লক্ষ্য রেখে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে ৮ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, দেশে এক নীরব বিপ্লব ঘটছে। আমরা বলছি, আমরা এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করি, প্রকৃতপক্ষে যা আরো বেশি।’
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির জুলাই আন্দোলন পরবর্তী বাংলাদেশের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের সামনে আবার সুযোগ এসেছে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার। যুবসমাজের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছানো দরকার- সুশিক্ষা ছাড়া নেতা কিংবা বিশেষজ্ঞ হওয়া সম্ভব নয়, বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতাও সম্ভব নয়। এখন অটো প্রমোশন, অটো পাস, এবং পাঠ্যক্রম ছোট করার বিষয়ে অনেক বিতর্ক চলছে, যেগুলো কোনো কার্যকরী পন্থা হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, শিক্ষায় কোনো শর্টকাট নেই। পড়তে হবে, গবেষণা করতে হবে।’
দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এমন অনেক দেশ দেখেছি যেখানে এই সুযোগের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে আছে। শ্বেতপত্রে আমরা বলেছি, বাংলাদেশ এর ‘ঝুঁকি’তে নেই বরং ইতোমধ্যেই এই ফাঁদে পড়ে গেছে। যদি সঠিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হব।’




















