ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিজনেস ফোরামের সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা

সমঝোতায় চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম কমানো কঠিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমঝোতায় চাঁদাবাজির কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পণ্য আমদানিতে কর কমানোর পরও বাজারে স্বস্তি না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিন।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৩ এ তিনি এ উদ্বগের কথা জানান।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএইড) মিশন পরিচালক রিড এশলিম্যান উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ুন রশীদ।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে সব ধরনের কর কমানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কমে না। আই অ্যাম ডিপলি ওরিড আবাউট দ্যাট। ট্যাক্স কমে যাচ্ছে। চিনির দাম বোধ হয় কিছুটা কমেছে মাঝখানে। প্রধান উপদেষ্টাকে বললাম, আমি তো আর কিছু করতে পারবো না। পণ্যের দাম ও বাজার নিয়ন্ত্রণ অনেক কঠিন।

বাজারে দুই-তিন রকমের চাঁদাবাজ
বাজারে দুই-তিন রকমের চাঁদাবাজের যোগসাজেশে পণ্যের দাম বাড়ছে বলে মনে করেন এই উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা খুব কঠিন। কিন্তু চাঁদাবাজির সমঝোতা খুবই সহজ। যেকোন বাজারে যান। দুই-তিন রকম চাঁদাবাজ আছে, যারা আগের সরকারের। আবার যারা প্রোসপেক্টিভ, আসবে আর লোকাল। আমি কারওয়ান বাজারে গেছি। তিন ভাগে ভাগ করা। সেখানে সমঝোতা আছে। আমাকে বলা হয়, সিন্ডিকেট ভাঙো। পণ্যের দাম কমানো ও ক্রেতার কাছে পণ্য সহজলভ্য করা। মাঝখানে যে দামটা থাকে, ১০ টাকার বেগুন ৫০ টাকা হয়ে যায়। কোনো কারণ ছাড়াই এটা বেড়ে যায়।

মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা তাদের কাজ করবে। কিন্তু যে মধ্যস্বত্ত্বভোগী ট্রাক ছুঁয়ে বলে আমাকে ৫০০ টাকা দাও, সে মধ্যস্বত্ত্বভোগী না। সে একজন চাঁদাবাজ, যোগ করেন তিনি।

আসন্ন বাজেট নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে অর্থ উপদেষ্টা জানান। তবে বাজেটে খুব বেশি নাটকীয় কিছু করা হবে না বলেও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন এই উপদেষ্টা। তবে কর ছাড় কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রণোদনার দিন শেষ। এটা ভবিষ্যতে করা সম্ভব হবে না। কর অব্যাহতি কমানো নিয়ে আমি আগে বলেছি। সারাজীবন কী কর রেয়াত দিতেই থাকবো? এটা সম্ভব না। যুক্তিসঙ্গত কর দিতে হবে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকার অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কাজ করেনি। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে জরিমানা করা হলো, সবাই বলাবলি করছে- হায় হায় এত বড় খেলোয়াড়কে জরিমানা করা হলো। আরে এটাতো দুই বছর আগেই তাকে জরিমানা করা উচিত ছিল।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা নিয়ে রাজনীতিকরা একটা পথরেখা চাইছে। কিন্তু রাজনীতির পথরেখাকে আমরা কতখানি সুগম করতে পারবো। আমরা কতখানি সংস্কা কে আরও বেশি গভীর করতে পারবো তার পুরোটা নির্ভর করবে; আমরা কতটা মানুষকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে পারবো। যদি মানুষকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে না পারি, মানুষকে আইনশৃঙ্খলা দিয়ে সুরক্ষা দিতে না পারি তাহলে মানুষের ওই সংস্কারের জন্য যতই ভালোবাসা থাক, ধৈর্য্য থাকবে না। এই ধৈর্য্যের জন্য অর্থনীতিতে মধ্য মেয়াদি কর্মসূচি প্রয়োজন বলেও জানান এই অর্থনীতিবিদ।

একটা স্বমন্বিত, কার্যকর, আস্থা প্রবর্ধক কর্মসূচি মধ্য মেয়াদে দরকার। বিনিয়োগ হয় দীর্ঘমেয়াদের কথা চিন্তা করে, যোগ করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে। এই মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা আমাদের আরেকটি বিষয়ে স্বস্তি দিতে পারে। সেটি হল আমাদের সঙ্গে বিদেশীদের সম্পর্ক। আমরা এলডিসি থেকে বের হচ্ছি, এরপর আমরা কী বাজার সুবিধা পাব সেই বিষয়ে আমাদের নিশ্চয়তা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজনেস ফোরামের সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা

সমঝোতায় চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম কমানো কঠিন

আপডেট সময় ০৫:১৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

সমঝোতায় চাঁদাবাজির কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পণ্য আমদানিতে কর কমানোর পরও বাজারে স্বস্তি না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিন।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৩ এ তিনি এ উদ্বগের কথা জানান।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএইড) মিশন পরিচালক রিড এশলিম্যান উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ুন রশীদ।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে সব ধরনের কর কমানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কমে না। আই অ্যাম ডিপলি ওরিড আবাউট দ্যাট। ট্যাক্স কমে যাচ্ছে। চিনির দাম বোধ হয় কিছুটা কমেছে মাঝখানে। প্রধান উপদেষ্টাকে বললাম, আমি তো আর কিছু করতে পারবো না। পণ্যের দাম ও বাজার নিয়ন্ত্রণ অনেক কঠিন।

বাজারে দুই-তিন রকমের চাঁদাবাজ
বাজারে দুই-তিন রকমের চাঁদাবাজের যোগসাজেশে পণ্যের দাম বাড়ছে বলে মনে করেন এই উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা খুব কঠিন। কিন্তু চাঁদাবাজির সমঝোতা খুবই সহজ। যেকোন বাজারে যান। দুই-তিন রকম চাঁদাবাজ আছে, যারা আগের সরকারের। আবার যারা প্রোসপেক্টিভ, আসবে আর লোকাল। আমি কারওয়ান বাজারে গেছি। তিন ভাগে ভাগ করা। সেখানে সমঝোতা আছে। আমাকে বলা হয়, সিন্ডিকেট ভাঙো। পণ্যের দাম কমানো ও ক্রেতার কাছে পণ্য সহজলভ্য করা। মাঝখানে যে দামটা থাকে, ১০ টাকার বেগুন ৫০ টাকা হয়ে যায়। কোনো কারণ ছাড়াই এটা বেড়ে যায়।

মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা তাদের কাজ করবে। কিন্তু যে মধ্যস্বত্ত্বভোগী ট্রাক ছুঁয়ে বলে আমাকে ৫০০ টাকা দাও, সে মধ্যস্বত্ত্বভোগী না। সে একজন চাঁদাবাজ, যোগ করেন তিনি।

আসন্ন বাজেট নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে অর্থ উপদেষ্টা জানান। তবে বাজেটে খুব বেশি নাটকীয় কিছু করা হবে না বলেও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন এই উপদেষ্টা। তবে কর ছাড় কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রণোদনার দিন শেষ। এটা ভবিষ্যতে করা সম্ভব হবে না। কর অব্যাহতি কমানো নিয়ে আমি আগে বলেছি। সারাজীবন কী কর রেয়াত দিতেই থাকবো? এটা সম্ভব না। যুক্তিসঙ্গত কর দিতে হবে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকার অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কাজ করেনি। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে জরিমানা করা হলো, সবাই বলাবলি করছে- হায় হায় এত বড় খেলোয়াড়কে জরিমানা করা হলো। আরে এটাতো দুই বছর আগেই তাকে জরিমানা করা উচিত ছিল।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা নিয়ে রাজনীতিকরা একটা পথরেখা চাইছে। কিন্তু রাজনীতির পথরেখাকে আমরা কতখানি সুগম করতে পারবো। আমরা কতখানি সংস্কা কে আরও বেশি গভীর করতে পারবো তার পুরোটা নির্ভর করবে; আমরা কতটা মানুষকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে পারবো। যদি মানুষকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে না পারি, মানুষকে আইনশৃঙ্খলা দিয়ে সুরক্ষা দিতে না পারি তাহলে মানুষের ওই সংস্কারের জন্য যতই ভালোবাসা থাক, ধৈর্য্য থাকবে না। এই ধৈর্য্যের জন্য অর্থনীতিতে মধ্য মেয়াদি কর্মসূচি প্রয়োজন বলেও জানান এই অর্থনীতিবিদ।

একটা স্বমন্বিত, কার্যকর, আস্থা প্রবর্ধক কর্মসূচি মধ্য মেয়াদে দরকার। বিনিয়োগ হয় দীর্ঘমেয়াদের কথা চিন্তা করে, যোগ করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে। এই মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা আমাদের আরেকটি বিষয়ে স্বস্তি দিতে পারে। সেটি হল আমাদের সঙ্গে বিদেশীদের সম্পর্ক। আমরা এলডিসি থেকে বের হচ্ছি, এরপর আমরা কী বাজার সুবিধা পাব সেই বিষয়ে আমাদের নিশ্চয়তা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন