ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বর্ষিয়ান রাজনীতিক মতিয়া চৌধুরীর ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষিয়ান রাজনীতিক বেগম মতিয়া চৌধুরী বুধবার দুপুর ১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। দুর্নীতিগ্রস্ত শেখ হাসিনা সকারের বার বারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জ্বিত আওয়ামী লীগে একজন সৎ, নীতিবান, স্পষ্টবাদী ও সাহসী নেতা ছিলেন সাবেক সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত ত‍ৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সাবেক সভাপতি মতিয়া চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব- ইয়াহিয়ার দু:শাসনের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে অগ্নিকন্যা উপাধি পেয়েছিলেন।

মতিয়া চৌধুরী ছাত্র জীবন শেষে মস্কোপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ-কুঁড়েঘর) যোগ দেন এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচিত হন। এরপর দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে এবং তিনিসহ কয়েকজন মিলে গঠন করেন গণতন্ত্রী পার্টি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।

সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদে ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত পাঁচ বছর এবং ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ১০ বছর মিলিয়ে মোট ১৫ বছর কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে শেখ হাসিনার প্রতিটি মন্ত্রিসভার প্রায় সকল সদস্য এবং আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতারা লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লেও বেগম মতিয়া চৌধুরী ছিলেন ব্যতিক্রম। তাঁর ব্যক্তিগত সততা নিয়ে এখনো কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেননি। আর এ কারণেই হয়তো শেষ দুটি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি তিনি।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাহুতকান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মতিয়া পরবর্তীতে বৈবাহিক সূত্রে শেরপুর জেলার বধূ হয়ে যান।

তাঁর স্বামী প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রয়াত বজলুর রহমান আমৃত্যু দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ছিলেন। বিশিষ্ট শিশুসংগঠক বজলুর রহমান এবং রাজনীতিবিদ মতিয়া চৌধুরী দম্পতি ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্ষিয়ান রাজনীতিক মতিয়া চৌধুরীর ইন্তেকাল

আপডেট সময় ১০:২২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪

বর্ষিয়ান রাজনীতিক বেগম মতিয়া চৌধুরী বুধবার দুপুর ১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। দুর্নীতিগ্রস্ত শেখ হাসিনা সকারের বার বারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জ্বিত আওয়ামী লীগে একজন সৎ, নীতিবান, স্পষ্টবাদী ও সাহসী নেতা ছিলেন সাবেক সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত ত‍ৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সাবেক সভাপতি মতিয়া চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব- ইয়াহিয়ার দু:শাসনের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে অগ্নিকন্যা উপাধি পেয়েছিলেন।

মতিয়া চৌধুরী ছাত্র জীবন শেষে মস্কোপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ-কুঁড়েঘর) যোগ দেন এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচিত হন। এরপর দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে এবং তিনিসহ কয়েকজন মিলে গঠন করেন গণতন্ত্রী পার্টি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।

সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদে ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত পাঁচ বছর এবং ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ১০ বছর মিলিয়ে মোট ১৫ বছর কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে শেখ হাসিনার প্রতিটি মন্ত্রিসভার প্রায় সকল সদস্য এবং আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতারা লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লেও বেগম মতিয়া চৌধুরী ছিলেন ব্যতিক্রম। তাঁর ব্যক্তিগত সততা নিয়ে এখনো কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেননি। আর এ কারণেই হয়তো শেষ দুটি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি তিনি।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাহুতকান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মতিয়া পরবর্তীতে বৈবাহিক সূত্রে শেরপুর জেলার বধূ হয়ে যান।

তাঁর স্বামী প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রয়াত বজলুর রহমান আমৃত্যু দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ছিলেন। বিশিষ্ট শিশুসংগঠক বজলুর রহমান এবং রাজনীতিবিদ মতিয়া চৌধুরী দম্পতি ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন