ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

ব্যাংক ডাকাতির নাটকিয় ঘটনার অবসান

‘খেলনা পিস্তল নিয়ে ৩ যুবকের অ্যাডভেঞ্চার’

নিজস্ব প্রতিবেদক



ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জে রূপালী ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি করতে আসা যুবকরা পুলিশ হেফাযতে রয়েছেন। তবে তারা কেউ পেশাদার ডাকাত বা অপরাধি নয় বলে প্রথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। ব্যাংকের শাখা থেকেও কোনো টাকা খোয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। হয়নি জানমালের কোনো ক্ষয় ক্ষতি। তবে দিনভার নাটকিয়তার মধ্য দিয়ে ঘটনার শেষে আটককৃতদের হাতে যে অস্ত্র পাওয়া গিছে তা ছিল নিছক খেলনা।


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় রূপালী ব্যাংকের জিননিরা শাখায় দুপুর ২টার দিকে ডাকাতরা ব্যাংকে ঢোকেন। ডাকাতি করতে আসা তিন জন যুবক গ্রাহক সেজে ব্যাংকের শাখায় ঢোকেন। ডাকাতরা হানা দেওয়ার সময় ব্যাংকে মোট ছয়জন গ্রাহক ছিলেন। সেসময় ব্যাংকের ছিলেন সাতজন কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী ও দুজন ফায়ার গার্ড।


অস্ত্র দিয়ে ম্যানেজারকে জিম্মি করে টাকা লুট করতে এসেছিলেন ওই তিন ডাকাত। এ সময় পাশের মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত পড়ার কথা জানানো হলে আশপাশের কয়েকশ লোক ব্যাংকের ওই শাখাটি ঘেরাও করেন। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ব্যাংকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান। পরে বিকাল ৫টার দিকে ডাকাত দল যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন- শারাফাত, শিফাত ও নিরব। ওই তিনজনের একজনের বয়স ২২, অন্য দুজনের বয়স ১৬। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আহম্মদ মুঈদ জানান, আটকরা বলছেন, মৃত্যুপথযাত্রী একজন কিডনি রোগীকে (কিডনি সমস্যায় অসুস্থ) বাঁচাতে ব্যাংকে ডাকাতি করতে আসেন তারা। তিনি বলেন, ‌‘ডাকাতরা মুভি দেখে এমন একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ডাকাতি করতে আসেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। ‘তবে তারা যে রোগীর ঠিকানা দিয়েছেন সেটি যাচাই-বাছাই চলছে। আদৌ সত্য কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’


ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তাদের অপরাধী বলা যায় না। তারা হয়তো মিস গাউডেড। তারা অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে হয়তো এই ডাকাতি করতে আসেন।


এ দিকে রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যাংক পরিদর্শন শেষে রূপালী ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের জিএম মো. ইসমাইল হোসেন শেখ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা-পয়সা খোয়া যায়নি, জনগণের কোনো আমানতও খোয়া যায়নি। আগামী রোববার থেকে ব্যাংকের এই শাখায় আবার আগের মতো লেনদেন হবে।
রূপালী ব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, তারা নিরাপদে আছেন। ব্যাংকের ভেতরে থাকা সবাই সুস্থ আছেন। ব্যাংকের সব টাকা গুনে দেখা হয়েছে, এক টাকাও খোয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংক ডাকাতির নাটকিয় ঘটনার অবসান

‘খেলনা পিস্তল নিয়ে ৩ যুবকের অ্যাডভেঞ্চার’

আপডেট সময় ১২:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪



ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জে রূপালী ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি করতে আসা যুবকরা পুলিশ হেফাযতে রয়েছেন। তবে তারা কেউ পেশাদার ডাকাত বা অপরাধি নয় বলে প্রথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। ব্যাংকের শাখা থেকেও কোনো টাকা খোয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। হয়নি জানমালের কোনো ক্ষয় ক্ষতি। তবে দিনভার নাটকিয়তার মধ্য দিয়ে ঘটনার শেষে আটককৃতদের হাতে যে অস্ত্র পাওয়া গিছে তা ছিল নিছক খেলনা।


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় রূপালী ব্যাংকের জিননিরা শাখায় দুপুর ২টার দিকে ডাকাতরা ব্যাংকে ঢোকেন। ডাকাতি করতে আসা তিন জন যুবক গ্রাহক সেজে ব্যাংকের শাখায় ঢোকেন। ডাকাতরা হানা দেওয়ার সময় ব্যাংকে মোট ছয়জন গ্রাহক ছিলেন। সেসময় ব্যাংকের ছিলেন সাতজন কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী ও দুজন ফায়ার গার্ড।


অস্ত্র দিয়ে ম্যানেজারকে জিম্মি করে টাকা লুট করতে এসেছিলেন ওই তিন ডাকাত। এ সময় পাশের মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত পড়ার কথা জানানো হলে আশপাশের কয়েকশ লোক ব্যাংকের ওই শাখাটি ঘেরাও করেন। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ব্যাংকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান। পরে বিকাল ৫টার দিকে ডাকাত দল যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন- শারাফাত, শিফাত ও নিরব। ওই তিনজনের একজনের বয়স ২২, অন্য দুজনের বয়স ১৬। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আহম্মদ মুঈদ জানান, আটকরা বলছেন, মৃত্যুপথযাত্রী একজন কিডনি রোগীকে (কিডনি সমস্যায় অসুস্থ) বাঁচাতে ব্যাংকে ডাকাতি করতে আসেন তারা। তিনি বলেন, ‌‘ডাকাতরা মুভি দেখে এমন একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ডাকাতি করতে আসেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। ‘তবে তারা যে রোগীর ঠিকানা দিয়েছেন সেটি যাচাই-বাছাই চলছে। আদৌ সত্য কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’


ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তাদের অপরাধী বলা যায় না। তারা হয়তো মিস গাউডেড। তারা অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে হয়তো এই ডাকাতি করতে আসেন।


এ দিকে রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যাংক পরিদর্শন শেষে রূপালী ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের জিএম মো. ইসমাইল হোসেন শেখ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা-পয়সা খোয়া যায়নি, জনগণের কোনো আমানতও খোয়া যায়নি। আগামী রোববার থেকে ব্যাংকের এই শাখায় আবার আগের মতো লেনদেন হবে।
রূপালী ব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, তারা নিরাপদে আছেন। ব্যাংকের ভেতরে থাকা সবাই সুস্থ আছেন। ব্যাংকের সব টাকা গুনে দেখা হয়েছে, এক টাকাও খোয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন