ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

‘পাইপলাইনে আরো প্রায় দেড় হাজার’

এসআইবিএল’র ৫৮৯ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক দিনে ৫৮৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে বেসরকারি খাতের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)। বৃহস্পতিবার প্রত্যেককে পৃথক চিঠি দিয়ে চাকরিচ্যুতির কথা জানানো হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় আরো প্রায় দেড় হাজারের তালিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির মানব সম্পদ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। এমন তথ্যের মিল রয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাদিকুল ইসলামের মন্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, “এটি চলমান প্রক্রিয়া।”

তবে সম্প্রতি পদোন্নতি প্রাপ্ত একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রবেশনারি সময়কালে থাকা অনেকের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের সবাইকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও সনদ যাচাই ছাড়াই চলতি বছরে চাকরি দেওয়া হয়েছিলো। এরা চট্টগ্রামের পটিয়ার এসব বাসিন্দা।

ব্যাংকটির মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী এসআইবিএলের মোট জনবল ৪ হাজার ৭৫০ জন। এর মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয় ২ হাজার জনকে।

ব্যাংকটির রাজধানীর একটি শাখা থেকে সম্প্রতি জনসংযোগ শাখায় বদলী হয়ে আসা একজন কর্মকর্তা নিজের নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি দখলে নেওয়ার পর এসব নিয়োগ হয়। যাদের বেশির ভাগ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। এস আলমের বাড়ির সামনে রাখা চাকরির বক্সে সিভি জমা দিয়ে তারা চাকরি পেয়েছেন। এভাবে নিয়োগ পাওয়া অন্যদের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ব্যাংকটির অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ন্যূনতম যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই অপ্রয়োজনীয় অনেক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, অনেক শাখায় বসার জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। নানাভাবে তারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১০ নম্বর শর্তের আলোকে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।এর মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যয় সংকোচনের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন হলো, যা অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফোরকানুল্লাহকের মোবাইল ফোনে বারকয়েক যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ব্যাংকটির নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদিকুল ইসলাম বলেছেন, “এটা চলমান প্রক্রিয়া। নিয়মের মধ্যে থেকে সব করা হচ্ছে। এখানে অনিয়ম যেন আর না হয় সেই চেষ্টা চলছে।”

এদিকে চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ বৃহস্পতিবার রাতেই বৈঠক করে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা চাকরিতে বহালের দাবিতে রাজপথে শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি এসআইবিএলের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও এবং মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘পাইপলাইনে আরো প্রায় দেড় হাজার’

এসআইবিএল’র ৫৮৯ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

আপডেট সময় ১০:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪

এক দিনে ৫৮৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে বেসরকারি খাতের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)। বৃহস্পতিবার প্রত্যেককে পৃথক চিঠি দিয়ে চাকরিচ্যুতির কথা জানানো হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় আরো প্রায় দেড় হাজারের তালিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির মানব সম্পদ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। এমন তথ্যের মিল রয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাদিকুল ইসলামের মন্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, “এটি চলমান প্রক্রিয়া।”

তবে সম্প্রতি পদোন্নতি প্রাপ্ত একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রবেশনারি সময়কালে থাকা অনেকের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের সবাইকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও সনদ যাচাই ছাড়াই চলতি বছরে চাকরি দেওয়া হয়েছিলো। এরা চট্টগ্রামের পটিয়ার এসব বাসিন্দা।

ব্যাংকটির মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী এসআইবিএলের মোট জনবল ৪ হাজার ৭৫০ জন। এর মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয় ২ হাজার জনকে।

ব্যাংকটির রাজধানীর একটি শাখা থেকে সম্প্রতি জনসংযোগ শাখায় বদলী হয়ে আসা একজন কর্মকর্তা নিজের নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি দখলে নেওয়ার পর এসব নিয়োগ হয়। যাদের বেশির ভাগ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। এস আলমের বাড়ির সামনে রাখা চাকরির বক্সে সিভি জমা দিয়ে তারা চাকরি পেয়েছেন। এভাবে নিয়োগ পাওয়া অন্যদের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ব্যাংকটির অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ন্যূনতম যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই অপ্রয়োজনীয় অনেক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, অনেক শাখায় বসার জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। নানাভাবে তারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১০ নম্বর শর্তের আলোকে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।এর মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যয় সংকোচনের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন হলো, যা অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফোরকানুল্লাহকের মোবাইল ফোনে বারকয়েক যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ব্যাংকটির নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদিকুল ইসলাম বলেছেন, “এটা চলমান প্রক্রিয়া। নিয়মের মধ্যে থেকে সব করা হচ্ছে। এখানে অনিয়ম যেন আর না হয় সেই চেষ্টা চলছে।”

এদিকে চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ বৃহস্পতিবার রাতেই বৈঠক করে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা চাকরিতে বহালের দাবিতে রাজপথে শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি এসআইবিএলের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও এবং মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।

নিউজটি শেয়ার করুন