ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

রোববার থেকে কারখানায় অভিযান শুরু

আইন প্রণয়নের ২২ বছর পর পলিথিন বন্ধের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক



পরিবেশের হুমকি পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে আইন প্রণয়নের ২২ বছর পর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকারের করা আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে অন্তর্বতীকালীন সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী কাল রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
দেশজুড়ে পলিথিন উৎপাদকদের বিরুদ্ধে করবে এ অভিযানে নামবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এ বিষয়ে সকল জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


পরিচালনা করা হবে মোবাইল কোর্ট। পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর কথা থাকলেও মাসের প্রথম দুই দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ৩ নভেম্বর থেকে অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।


জানা যায়, ২০০২ সালে আইন করে পলিব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে দুই দশক বাদে দেশের সব জায়গা পলিথিন ব্যাগে ছেয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়।
পরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নিষিদ্ধ পলিথিন ও পলিপ্রপাইলিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ১ নভেম্বর থেকে অভিযান শুরু করা হবে।


এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারে নিজেই গিয়েছিলেন পরিবেশ সচিব তপন কুমার। এ সময় তিনি বলেছেন, “পরিবেশ রক্ষায় ৩ নভেম্বর থেকে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাদের আর ছাড় দেওয়া যাবে না। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। মোবাইল কোর্টের যে আইন আছে, সেগুলো আপনারা জানেন।


বাজারগুলোতে আপাতত জরিমানা করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সতর্কতামূলক অভিযান নভেম্বরের প্রথম এক সপ্তাহ চলবে। এর পরের সপ্তাহ থেকে অভিযানে পলিথিনের ব্যাগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একইসঙ্গে দোকানিদের পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর অভিযানে পলিথিন ব্যাগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করা হয়


পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটির সদস্য হিসেবে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উপসচিব রুবিনা ফেরদৌসী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রাজিনারা বেগম ও পরিচালক মোহাম্মাদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী পরিদর্শন দলে ছিলেন।

ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারা
কৃষি মার্কেটে শুক্রবার আসা ক্রেতাদের অনেকের হাতে বাসা থেকে আনা ব্যাগ দেখা গেছে। তবে মাছ, মাংস নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।


ক্রেতা রবিউল ইসলাম বললেন, “বাসা থেকে তো বাজারের ব্যাগ এনেছি। আলু-পেঁয়াজ এই ব্যাগেই নিব। তবে মাছ নিতে গেলে আমাকে ঠিকই পলিথিন নিতে হবে।
“আর মাছ বিক্রেতাওবা আমাকে মাছ দিবে কিসে? এসব ক্ষেত্রে পলিথিনের একটা বিকল্প দরকার আসলে।”
ক্রেতাদের হাতে বাসা থেকে আনা প্লাস্টিক ব্যাগ যেমন দেখা গেছে, তেমনই কৃষি মার্কেটেও এই পিপি ওভেন ব্যাগ বেচতে দেখা গেছে। আর তা দেখে মনিটরিং কমিটি বলেছে, “এটা যেহেতু বারবার ব্যবহার করা যায়, তাই আপাতত মানুষ এটা ব্যবহার করুতে থাকুক। তবে পলিথিন একেবারে বাদ দিতেই হবে।”


সুপারশপে কাপড়ের ব্যাগ ও কাগজের টোঙা
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটি কৃষি মার্কেট পরিদর্শন শেষে মোহাম্মদপুরে ‘প্রিন্স বাজার’ ও ‘আগোরা’ সুপারশপে যান। এই চেইনশপ দুটিতে পলিথিনের ব্যবহার নেই, বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ বেচা হচ্ছে। আর মাছ বা মাংসের ক্ষেত্রে তারা কাগজের টোঙা ব্যবহার করছেন।


প্রিন্স বাজার সুপারশপের ব্যবস্থাপক শামসুদ্দিন ওমর বলেন, “পরিবেশ যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সেভাবে কাজ করছি। আমরা আলাদা আলাদা আইডিয়া এনেছি। কেউ তিন হাজার টাকার শপিং করলে আমাদের পক্ষ থেকে দুইটা করে ব্যাগ দেই।


“আর কেউ পুরাতন ব্যাগ নিয়ে আসে বিক্রি করার জন্য, সেগুলো আমরা কিনে নেব। এরপর সেগুলো ওয়াশ করে আবার সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে বিক্রি করব। মানে রি-ইউজ হচ্ছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রোববার থেকে কারখানায় অভিযান শুরু

আইন প্রণয়নের ২২ বছর পর পলিথিন বন্ধের উদ্যোগ

আপডেট সময় ১০:২৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪



পরিবেশের হুমকি পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে আইন প্রণয়নের ২২ বছর পর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকারের করা আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে অন্তর্বতীকালীন সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী কাল রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
দেশজুড়ে পলিথিন উৎপাদকদের বিরুদ্ধে করবে এ অভিযানে নামবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এ বিষয়ে সকল জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


পরিচালনা করা হবে মোবাইল কোর্ট। পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর কথা থাকলেও মাসের প্রথম দুই দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ৩ নভেম্বর থেকে অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।


জানা যায়, ২০০২ সালে আইন করে পলিব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে দুই দশক বাদে দেশের সব জায়গা পলিথিন ব্যাগে ছেয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়।
পরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নিষিদ্ধ পলিথিন ও পলিপ্রপাইলিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ১ নভেম্বর থেকে অভিযান শুরু করা হবে।


এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারে নিজেই গিয়েছিলেন পরিবেশ সচিব তপন কুমার। এ সময় তিনি বলেছেন, “পরিবেশ রক্ষায় ৩ নভেম্বর থেকে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাদের আর ছাড় দেওয়া যাবে না। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। মোবাইল কোর্টের যে আইন আছে, সেগুলো আপনারা জানেন।


বাজারগুলোতে আপাতত জরিমানা করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সতর্কতামূলক অভিযান নভেম্বরের প্রথম এক সপ্তাহ চলবে। এর পরের সপ্তাহ থেকে অভিযানে পলিথিনের ব্যাগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একইসঙ্গে দোকানিদের পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর অভিযানে পলিথিন ব্যাগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করা হয়


পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটির সদস্য হিসেবে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উপসচিব রুবিনা ফেরদৌসী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রাজিনারা বেগম ও পরিচালক মোহাম্মাদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী পরিদর্শন দলে ছিলেন।

ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারা
কৃষি মার্কেটে শুক্রবার আসা ক্রেতাদের অনেকের হাতে বাসা থেকে আনা ব্যাগ দেখা গেছে। তবে মাছ, মাংস নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।


ক্রেতা রবিউল ইসলাম বললেন, “বাসা থেকে তো বাজারের ব্যাগ এনেছি। আলু-পেঁয়াজ এই ব্যাগেই নিব। তবে মাছ নিতে গেলে আমাকে ঠিকই পলিথিন নিতে হবে।
“আর মাছ বিক্রেতাওবা আমাকে মাছ দিবে কিসে? এসব ক্ষেত্রে পলিথিনের একটা বিকল্প দরকার আসলে।”
ক্রেতাদের হাতে বাসা থেকে আনা প্লাস্টিক ব্যাগ যেমন দেখা গেছে, তেমনই কৃষি মার্কেটেও এই পিপি ওভেন ব্যাগ বেচতে দেখা গেছে। আর তা দেখে মনিটরিং কমিটি বলেছে, “এটা যেহেতু বারবার ব্যবহার করা যায়, তাই আপাতত মানুষ এটা ব্যবহার করুতে থাকুক। তবে পলিথিন একেবারে বাদ দিতেই হবে।”


সুপারশপে কাপড়ের ব্যাগ ও কাগজের টোঙা
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটি কৃষি মার্কেট পরিদর্শন শেষে মোহাম্মদপুরে ‘প্রিন্স বাজার’ ও ‘আগোরা’ সুপারশপে যান। এই চেইনশপ দুটিতে পলিথিনের ব্যবহার নেই, বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ বেচা হচ্ছে। আর মাছ বা মাংসের ক্ষেত্রে তারা কাগজের টোঙা ব্যবহার করছেন।


প্রিন্স বাজার সুপারশপের ব্যবস্থাপক শামসুদ্দিন ওমর বলেন, “পরিবেশ যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সেভাবে কাজ করছি। আমরা আলাদা আলাদা আইডিয়া এনেছি। কেউ তিন হাজার টাকার শপিং করলে আমাদের পক্ষ থেকে দুইটা করে ব্যাগ দেই।


“আর কেউ পুরাতন ব্যাগ নিয়ে আসে বিক্রি করার জন্য, সেগুলো আমরা কিনে নেব। এরপর সেগুলো ওয়াশ করে আবার সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে বিক্রি করব। মানে রি-ইউজ হচ্ছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন