ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক চুক্তি স্বাক্ষর

সবুজ প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু উন্নয়নে ৯০ কোটি ডলারের ঋণ মঞ্জুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক


পরিবেশের স্থায়িত্ব, নগর ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে বাংলাদেশকে ৯০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংক ৯০ কোটি ডলারের দুটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দ্বিতীয় বাংলাদেশ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ঋণ এবং স্থিতিশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চুক্তিগুলি যথাক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সচিব শাহরিয়ার সিদ্দিকী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফরিদ আজিজ এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে আব্দুলায়ে সেক স্বাক্ষর করেছেন।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলায়ে সেক বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি; যা গ্রামাঞ্চলে বা শহরে বসবাসকারী জনগণকে প্রভাবিত করে। এই দুটি অর্থায়ন বাংলাদেশকে সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং নগর অবকাঠামোসহ সকল ক্ষেত্রে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে তার উন্নয়ন আকাক্সক্ষা অর্জনে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।’

৫০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় বাংলাদেশ সবুজ এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন ঋণ দেশের সবুজ এবং জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক উন্নয়নে উত্তরণে সহায়তা করবে। এই অর্থায়ন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল হস্তক্ষেপের জন্য জনসাধারণের পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন উন্নত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া বায়ু দূষণ হ্রাস, পরিবেশগত প্রয়োগ উন্নত করা, কার্বন বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, টেকসই পানি ও স্যানিটেশন পরিষেবা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ এর দক্ষতা উন্নত করা এবং জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই পরিবেশকে এগিয়ে নিয়ে নিবে।

৪০ কোটি ডলার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে আর্থিক খাতের নীতিগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নে সহায়তা করবে। স্থিতিশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পটি দক্ষিণে কক্সবাজার থেকে বাংলাদেশের উত্তরে পঞ্চগড় পর্যন্ত ৯৫০ কিলোমিটারেরও বেশি মহাসড়কজুড়ে অর্থনৈতিক করিডোর বরাবর সাতটি শহরের ক্লাস্টারে জলবায়ু-সহনশীল এবং লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল নগর অবকাঠামো এবং নগর ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি নির্বাচিত এই নগর এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে উপকৃত করবে।

এই প্রকল্পটি শহরগুলিতে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো এবং পরিকল্পনায় সমন্বিত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করিডোর এবং শহর ক্লাস্টারগুলির উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বিনিয়োগ প্রদান করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নির্বাচিত পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনগুলি জলবায়ু-সহনশীল এবং লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগের জন্য উপ-অনুদান পাবে। এটি ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি ফুটপাত, ১০টি আঞ্চলিক বাস টার্মিনাল, ১০টি বাজার, ১০টি সুপারমার্কেট, ১০টি পার্ক, ১০টি কমিউনিটি সেন্টার, ২০টি পাবলিক টয়লেট, ৮৮০ কিলোমিটার নগর সড়ক এবং ২০০০ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করবে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তা করা প্রথম উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ছিল। তারপর থেকে, বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) ৪৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ এবং ছাড়মূলক ঋণ, যা দেশটিকে তার উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলি পূরণে সহায়তা করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সুদমুক্ত ঋণের বৃহত্তম গ্রহীতাদের মধ্যে একটি।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক চুক্তি স্বাক্ষর

সবুজ প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু উন্নয়নে ৯০ কোটি ডলারের ঋণ মঞ্জুরী

আপডেট সময় ০৮:১৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪


পরিবেশের স্থায়িত্ব, নগর ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে বাংলাদেশকে ৯০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংক ৯০ কোটি ডলারের দুটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দ্বিতীয় বাংলাদেশ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ঋণ এবং স্থিতিশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চুক্তিগুলি যথাক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সচিব শাহরিয়ার সিদ্দিকী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফরিদ আজিজ এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে আব্দুলায়ে সেক স্বাক্ষর করেছেন।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলায়ে সেক বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি; যা গ্রামাঞ্চলে বা শহরে বসবাসকারী জনগণকে প্রভাবিত করে। এই দুটি অর্থায়ন বাংলাদেশকে সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং নগর অবকাঠামোসহ সকল ক্ষেত্রে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে তার উন্নয়ন আকাক্সক্ষা অর্জনে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।’

৫০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় বাংলাদেশ সবুজ এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন ঋণ দেশের সবুজ এবং জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক উন্নয়নে উত্তরণে সহায়তা করবে। এই অর্থায়ন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল হস্তক্ষেপের জন্য জনসাধারণের পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন উন্নত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া বায়ু দূষণ হ্রাস, পরিবেশগত প্রয়োগ উন্নত করা, কার্বন বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, টেকসই পানি ও স্যানিটেশন পরিষেবা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ এর দক্ষতা উন্নত করা এবং জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই পরিবেশকে এগিয়ে নিয়ে নিবে।

৪০ কোটি ডলার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে আর্থিক খাতের নীতিগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নে সহায়তা করবে। স্থিতিশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পটি দক্ষিণে কক্সবাজার থেকে বাংলাদেশের উত্তরে পঞ্চগড় পর্যন্ত ৯৫০ কিলোমিটারেরও বেশি মহাসড়কজুড়ে অর্থনৈতিক করিডোর বরাবর সাতটি শহরের ক্লাস্টারে জলবায়ু-সহনশীল এবং লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল নগর অবকাঠামো এবং নগর ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি নির্বাচিত এই নগর এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে উপকৃত করবে।

এই প্রকল্পটি শহরগুলিতে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো এবং পরিকল্পনায় সমন্বিত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করিডোর এবং শহর ক্লাস্টারগুলির উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বিনিয়োগ প্রদান করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নির্বাচিত পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনগুলি জলবায়ু-সহনশীল এবং লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগের জন্য উপ-অনুদান পাবে। এটি ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি ফুটপাত, ১০টি আঞ্চলিক বাস টার্মিনাল, ১০টি বাজার, ১০টি সুপারমার্কেট, ১০টি পার্ক, ১০টি কমিউনিটি সেন্টার, ২০টি পাবলিক টয়লেট, ৮৮০ কিলোমিটার নগর সড়ক এবং ২০০০ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করবে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তা করা প্রথম উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ছিল। তারপর থেকে, বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) ৪৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ এবং ছাড়মূলক ঋণ, যা দেশটিকে তার উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলি পূরণে সহায়তা করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সুদমুক্ত ঋণের বৃহত্তম গ্রহীতাদের মধ্যে একটি।

নিউজটি শেয়ার করুন