ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

আগামী জুনে ৭ শতাংশে নামতে পারে মূল্যস্ফীতি : গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

বিআইবিএম গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে বন্যার কারণে বর্তমান বাজারে সবজি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তি। তবে নানা উদ্যোগের ফলে যতটা ভয়বহ হওয়ার কথা তার চেয়ে কম রয়েছে। আগামীতে আরও কমে আসবে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে আমরা ব্যাংকের সুদ ও নীতি সুদহার কমিয়ে আনবো। আমাদের লক্ষ্য আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। পরবর্তী অর্থবছরের মাঝে তা ৫ শতাংশে নামানো। মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ৪ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। আশা করি সেটা সম্ভব।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘টিপিং পয়েন্টস অব রিফর্ম এজেন্ডা ফর দ্যা টার্নঅ্যারাউন্ড অব দ্যা ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক ন্যাশনাল ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলনে, অর্থনীতির চারটা স্তম্ভ ব্যাংকিং, স্টক মার্কেট, ইন্স্যুরেন্স, বন্ড মার্কেট কোনোটাই আমাদের দেশে শক্তিশালী নয়। নানা উদ্যোগের পরও বন্ড মার্কেট গড়েই তুলতে পারিনি, ইন্স্যুরেন্স আর স্টক মার্কেটের অবস্থা করুণ। এর ফলে একমাত্র ব্যাংকিং খাতকেই দেশে বড় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উৎস বের করতে না পারলে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের হতে পারবো না। যে কোনো উপায় বের করে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে তারল্য সংকট চলছে। এ কারণে টাকাও নেই। রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা এখন কমতে কমতে ২৪ বিলিয়নে নেমেছে। অর্থাৎ বাকিটা বাইরে চলে গেছে। আমরা যদি আমানত বাড়াতে না পারি, টাকা বাইরে চলে যায়। এতে ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধি হবে না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করার জন্য অর্থপাচার বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা টাকা ছাপিয়ে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে সহায়তা করছি, গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর জন্য করা হচ্ছে। তবে বন্ড, বিলের মাধ্যমে এসব টাকা দ্রুত সময়ে তোলা হবে। এতে গ্রাহক একদিকে টাকা পেলো, অন্যদিকে বাজার থেকে বাড়তি টাতা তুলে নেওয়া হলো।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. মো. হাবিবুর রহমান, বিআইবিএমের অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ছিদ্দিকী, বিআইবিএমের অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী, সহযোগী অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং কন্সালটেন্সী) মো. শিহাব উদ্দিন খান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামী জুনে ৭ শতাংশে নামতে পারে মূল্যস্ফীতি : গভর্নর

আপডেট সময় ১১:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

বিআইবিএম গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে বন্যার কারণে বর্তমান বাজারে সবজি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তি। তবে নানা উদ্যোগের ফলে যতটা ভয়বহ হওয়ার কথা তার চেয়ে কম রয়েছে। আগামীতে আরও কমে আসবে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে আমরা ব্যাংকের সুদ ও নীতি সুদহার কমিয়ে আনবো। আমাদের লক্ষ্য আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। পরবর্তী অর্থবছরের মাঝে তা ৫ শতাংশে নামানো। মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ৪ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। আশা করি সেটা সম্ভব।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘টিপিং পয়েন্টস অব রিফর্ম এজেন্ডা ফর দ্যা টার্নঅ্যারাউন্ড অব দ্যা ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক ন্যাশনাল ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলনে, অর্থনীতির চারটা স্তম্ভ ব্যাংকিং, স্টক মার্কেট, ইন্স্যুরেন্স, বন্ড মার্কেট কোনোটাই আমাদের দেশে শক্তিশালী নয়। নানা উদ্যোগের পরও বন্ড মার্কেট গড়েই তুলতে পারিনি, ইন্স্যুরেন্স আর স্টক মার্কেটের অবস্থা করুণ। এর ফলে একমাত্র ব্যাংকিং খাতকেই দেশে বড় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উৎস বের করতে না পারলে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের হতে পারবো না। যে কোনো উপায় বের করে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে তারল্য সংকট চলছে। এ কারণে টাকাও নেই। রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা এখন কমতে কমতে ২৪ বিলিয়নে নেমেছে। অর্থাৎ বাকিটা বাইরে চলে গেছে। আমরা যদি আমানত বাড়াতে না পারি, টাকা বাইরে চলে যায়। এতে ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধি হবে না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করার জন্য অর্থপাচার বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা টাকা ছাপিয়ে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে সহায়তা করছি, গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর জন্য করা হচ্ছে। তবে বন্ড, বিলের মাধ্যমে এসব টাকা দ্রুত সময়ে তোলা হবে। এতে গ্রাহক একদিকে টাকা পেলো, অন্যদিকে বাজার থেকে বাড়তি টাতা তুলে নেওয়া হলো।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. মো. হাবিবুর রহমান, বিআইবিএমের অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ছিদ্দিকী, বিআইবিএমের অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী, সহযোগী অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং কন্সালটেন্সী) মো. শিহাব উদ্দিন খান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন