ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজারে সৈকতে পর্যটকদের ঢল, তেমন চাপ নেই কুয়াকাটায়

নিজস্ব ডেস্ক

মহান বিজয় দিবসে পর্যটকের ঢল নেমেছে সমুদ্রের শহর কক্সবাজারে। সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের কোথাও কোনো খালি রুম নেই।


তবে ভিন্ন চিত্র দেশের দ্তীয় সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। এবারের বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার পর্যটকের তেমন চাপ নেই। এতে অনেকটাই হতাশ কুয়াকাটার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের চাপ কিছুটা কম।

কক্সবাজারের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিনের হোটেলগুলোতে আগামী তিন দিন পর্যন্ত কোনো হোটেলে রুম খালি নেই। কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজের টিকিটও প্রায় শেষ। বিজয় দিবসের ছুটিতে অবকাশ যাপনের জন্য ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার মানুষ শুক্রবার সকাল থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়েছে।


কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল খালি নেই। অনেক পর্যটক রুম চাইলেও দিতে পারছি না। এই চাপ আগামী তিন দিন পর্যন্ত থাকবে।


সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতের তীরজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আগত পর্যটরা বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে ঘোড়ায় চড়ে, ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে চড়ে সমুদ্র দর্শনে মেতেছেন। কিছু পর্যটক নোনা জলে স্নান করে আনন্দ উপভোগ করছেন।


ঢাকা থেকে আগত পর্যটক ইয়াছিন বলেন, ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসছি। সমুদ্র পাড়ে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে হোটেলের রুম ভাড়া একটু বেশি।


আরেক পর্যটক ইয়াকুব বলেন, সন্তানদের পরীক্ষা শেষ। তাদের একটু সময় দিতে কক্সবাজারে এসেছি। এখানে এসে এত মানুষ দেখবো কল্পনাও করিনি।


পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম বলেন, বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটক এসেছে। তাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যটক হয়রানির অভিযোগে পেলে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।


কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটক সেল) তানভীর হোসাইন বলেন, কক্সবাজারে লাখো পর্যটক অবস্থান করছে। কোথাও পর্যটক থেকে অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে কওয়াকাটায় আসা সাদেকুর রহমান বলেন, পরিবার নিয়ে এই প্রথম কুয়াকাটায় আসলাম। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে একদিন ছুটি নিয়েছি এবং সঙ্গে যুক্ত আছে আরও এক দিনের বিজয় দিবসের ছুটি। এখন টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছি। বেশ ভালোই লাগছে আমার । তবে এত কম পর্যটক থাকবে কুয়াকাটায় সেটা আশা করিনি। এই জায়গাটা অনেক সুন্দর, পরিবেশটাও অনেক ভালো। এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক।
হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল খান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম কুয়াকাটায় বিজয় দিবসের ছুটিতে হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং থাকবে। তবে কুয়াকাটার প্রথম শ্রেণির হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হলেও দ্বিতীয় শ্রেণির ও সাধারণ হোটেলগুলোতে নেই আশানুরূপ পর্যটক।


ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, শীত মৌসুম আগমনের সাথে সাথে পর্যটকদের বাড়তি একটি চাপ থাকে কুয়াকাটা। কারণ বর্ষা মৌসুমে শুধু কুয়াকাটার মধ্যেই বেড়ানো যায়। কিন্তু শীত মৌসুমে কুয়াকাটা সমুদ্র হয়ে প্রায় ১২/১৪টি দ্বীপে ঘুরতে যাওয়া যায়। কিন্তু এ বছর শীত মৌসুম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কুয়াকাটায় কাঙিক্ষত পর্যটকদের দেখা মেলেনি। তবে সামনের দিকে পর্যটকদের ভালো উপস্থিতি হবে বলে মনে করছি।


ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বরজুড়ে পর্যটকদের চাপ থাকে। কিন্তু এ বছর খুবই কম। তবে সার্বিকভাবে আমরা তৎপর রয়েছি। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছি। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে আমাদের টিম কাজ করছে। পর্যটক কম থাকলেও নিরাপত্তায় কোনো কমতি নেই কুয়াকাটায়।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে সৈকতে পর্যটকদের ঢল, তেমন চাপ নেই কুয়াকাটায়

আপডেট সময় ০৯:০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

মহান বিজয় দিবসে পর্যটকের ঢল নেমেছে সমুদ্রের শহর কক্সবাজারে। সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের কোথাও কোনো খালি রুম নেই।


তবে ভিন্ন চিত্র দেশের দ্তীয় সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। এবারের বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার পর্যটকের তেমন চাপ নেই। এতে অনেকটাই হতাশ কুয়াকাটার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের চাপ কিছুটা কম।

কক্সবাজারের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিনের হোটেলগুলোতে আগামী তিন দিন পর্যন্ত কোনো হোটেলে রুম খালি নেই। কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজের টিকিটও প্রায় শেষ। বিজয় দিবসের ছুটিতে অবকাশ যাপনের জন্য ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার মানুষ শুক্রবার সকাল থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়েছে।


কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল খালি নেই। অনেক পর্যটক রুম চাইলেও দিতে পারছি না। এই চাপ আগামী তিন দিন পর্যন্ত থাকবে।


সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতের তীরজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আগত পর্যটরা বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে ঘোড়ায় চড়ে, ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে চড়ে সমুদ্র দর্শনে মেতেছেন। কিছু পর্যটক নোনা জলে স্নান করে আনন্দ উপভোগ করছেন।


ঢাকা থেকে আগত পর্যটক ইয়াছিন বলেন, ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসছি। সমুদ্র পাড়ে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে হোটেলের রুম ভাড়া একটু বেশি।


আরেক পর্যটক ইয়াকুব বলেন, সন্তানদের পরীক্ষা শেষ। তাদের একটু সময় দিতে কক্সবাজারে এসেছি। এখানে এসে এত মানুষ দেখবো কল্পনাও করিনি।


পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম বলেন, বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটক এসেছে। তাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যটক হয়রানির অভিযোগে পেলে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।


কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটক সেল) তানভীর হোসাইন বলেন, কক্সবাজারে লাখো পর্যটক অবস্থান করছে। কোথাও পর্যটক থেকে অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে কওয়াকাটায় আসা সাদেকুর রহমান বলেন, পরিবার নিয়ে এই প্রথম কুয়াকাটায় আসলাম। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে একদিন ছুটি নিয়েছি এবং সঙ্গে যুক্ত আছে আরও এক দিনের বিজয় দিবসের ছুটি। এখন টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছি। বেশ ভালোই লাগছে আমার । তবে এত কম পর্যটক থাকবে কুয়াকাটায় সেটা আশা করিনি। এই জায়গাটা অনেক সুন্দর, পরিবেশটাও অনেক ভালো। এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক।
হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল খান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম কুয়াকাটায় বিজয় দিবসের ছুটিতে হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং থাকবে। তবে কুয়াকাটার প্রথম শ্রেণির হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হলেও দ্বিতীয় শ্রেণির ও সাধারণ হোটেলগুলোতে নেই আশানুরূপ পর্যটক।


ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, শীত মৌসুম আগমনের সাথে সাথে পর্যটকদের বাড়তি একটি চাপ থাকে কুয়াকাটা। কারণ বর্ষা মৌসুমে শুধু কুয়াকাটার মধ্যেই বেড়ানো যায়। কিন্তু শীত মৌসুমে কুয়াকাটা সমুদ্র হয়ে প্রায় ১২/১৪টি দ্বীপে ঘুরতে যাওয়া যায়। কিন্তু এ বছর শীত মৌসুম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কুয়াকাটায় কাঙিক্ষত পর্যটকদের দেখা মেলেনি। তবে সামনের দিকে পর্যটকদের ভালো উপস্থিতি হবে বলে মনে করছি।


ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বরজুড়ে পর্যটকদের চাপ থাকে। কিন্তু এ বছর খুবই কম। তবে সার্বিকভাবে আমরা তৎপর রয়েছি। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছি। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে আমাদের টিম কাজ করছে। পর্যটক কম থাকলেও নিরাপত্তায় কোনো কমতি নেই কুয়াকাটায়।

নিউজটি শেয়ার করুন