ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

রাতে উৎপাদকরাই রাজধানীর বাজারে ডিম পৌঁছে দিয়েছেন

ডিম উৎপাদকদের কোনো “সিন্ডিকেট” নেই : কাজী জাহিন হাসান

খায়রুন নাহার

কাপ্তান বাজারে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন কাজী জাহিন হাসান

খুচরা ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ডিম ১২ টাকা দরে বিক্রির শর্তে বুধবার শেষ রাতে ২০ লাখ ডিম সরাসরি রাজধানীর দুই বাজারে পৌঁছে দিয়েছে পেস্ট্রি শিল্প মালিকরা।
ডিম উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে ১০ টাকা ৯১ পয়সা দরে সরাসরি তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজারে আড়তে পৌঁছে দিয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদের উপিস্থিতিতে এ সরবরাহ কার্যক্রমের সময় কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহিন হাসানসহ আরো কয়েকটি পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয়রা উপিস্থত ছিলেন।
এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে কাজী জাহিন হাসান বলেন, উৎপাদক পর্যায়ে ডিমের কোনো “সিন্ডকেট” নেই। উৎপাদকসহ হাজার হাজার ব্যক্তি ডিম ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। বিশাল এ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে কখনো যোগসাজসে দাম বাড়ানো বা কারসাজি করা আদৌ সম্ভব নয়।

এদিকে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে বৃহস্পতিবার নতুন করে আরো ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিম আমদানির অনুমোতি দিতে যাচ্ছে। সাথে সাথে আরো সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমোতি দেওয়া হচ্ছে বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সব মিলে তাতে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ কোটি ডিম আমদানির অনুমোতি দিচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি বাজারে ডিমের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। একপর্যায়ে ঢাকার বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০–১৯০ টাকায়। যদিও আজ বুধবার বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। আজ ঢাকার বড় বাজারগুলোয় প্রতি ডজন ডিম ১৬০ টাকা ও পাড়া-মহল্লায় ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সম্প্রতি ডিমের ‘যৌক্তিক দাম’ নির্ধারণ করে দেয়। প্রতিটি ডিমের দাম উৎপাদন পর্যায়ে ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১১ টাকা ০১ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা (ডজন ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা) বেঁধে দেওয়া হয়।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর আড়তদাররা জরিমানার ভয়ে দুইদিন ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার পর ভোক্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আড়তে ডিম বিক্রি শুরু হয়। এতে বুধবার থেকে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

এ ছাড়া ডিমের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পণ্যটি আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্ক–কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এ দফায় ডিম আমদানি করার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর প্রথমটি হলো এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু–মুক্ত দেশ থেকে ডিম আমদানি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সনদ দাখিল করতে হবে। তৃতীয়ত, ডিম আমদানির প্রতিটি চালানের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। চতুর্থত, আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরে সাত দিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

এর আগে গত মাসেও এক দফায় ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাতে উৎপাদকরাই রাজধানীর বাজারে ডিম পৌঁছে দিয়েছেন

ডিম উৎপাদকদের কোনো “সিন্ডিকেট” নেই : কাজী জাহিন হাসান

আপডেট সময় ১২:১৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

খুচরা ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ডিম ১২ টাকা দরে বিক্রির শর্তে বুধবার শেষ রাতে ২০ লাখ ডিম সরাসরি রাজধানীর দুই বাজারে পৌঁছে দিয়েছে পেস্ট্রি শিল্প মালিকরা।
ডিম উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে ১০ টাকা ৯১ পয়সা দরে সরাসরি তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজারে আড়তে পৌঁছে দিয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদের উপিস্থিতিতে এ সরবরাহ কার্যক্রমের সময় কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহিন হাসানসহ আরো কয়েকটি পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয়রা উপিস্থত ছিলেন।
এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে কাজী জাহিন হাসান বলেন, উৎপাদক পর্যায়ে ডিমের কোনো “সিন্ডকেট” নেই। উৎপাদকসহ হাজার হাজার ব্যক্তি ডিম ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। বিশাল এ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে কখনো যোগসাজসে দাম বাড়ানো বা কারসাজি করা আদৌ সম্ভব নয়।

এদিকে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে বৃহস্পতিবার নতুন করে আরো ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিম আমদানির অনুমোতি দিতে যাচ্ছে। সাথে সাথে আরো সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমোতি দেওয়া হচ্ছে বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সব মিলে তাতে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ কোটি ডিম আমদানির অনুমোতি দিচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি বাজারে ডিমের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। একপর্যায়ে ঢাকার বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০–১৯০ টাকায়। যদিও আজ বুধবার বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। আজ ঢাকার বড় বাজারগুলোয় প্রতি ডজন ডিম ১৬০ টাকা ও পাড়া-মহল্লায় ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সম্প্রতি ডিমের ‘যৌক্তিক দাম’ নির্ধারণ করে দেয়। প্রতিটি ডিমের দাম উৎপাদন পর্যায়ে ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১১ টাকা ০১ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা (ডজন ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা) বেঁধে দেওয়া হয়।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর আড়তদাররা জরিমানার ভয়ে দুইদিন ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার পর ভোক্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আড়তে ডিম বিক্রি শুরু হয়। এতে বুধবার থেকে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

এ ছাড়া ডিমের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পণ্যটি আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্ক–কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এ দফায় ডিম আমদানি করার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর প্রথমটি হলো এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু–মুক্ত দেশ থেকে ডিম আমদানি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সনদ দাখিল করতে হবে। তৃতীয়ত, ডিম আমদানির প্রতিটি চালানের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। চতুর্থত, আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরে সাত দিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

এর আগে গত মাসেও এক দফায় ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন