ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনাসহ ১৪ দফা দাবি বিজিএমইএ’র

চ্যালেঞ্জ ডিঙ্গিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরেছে পোশাক শিল্পে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক শিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ এক্সিট পলিসিসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে দেশে রপ্তানীমুখী তৈরী পোশিক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। একই সাথে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, “চ্যালেঞ্জ ডিঙ্গিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরেছে পোশাক শিল্পে”।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকায় উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্য়ায়ের সহযোগিতায় রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক খাত একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।

আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা এবং পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

বিজিএমইএর তথ্যানুসারে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যেখানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, সেখানে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর ভারতের ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বোঝা যায়, রপ্তানি আদেশ এসব দেশে চলে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্দিষ্ট কিছু শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের পোশাক খাতে ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি ডলারের রপ্তানি ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলেনে বলা হয়, সরকারের সহযোগিতায় পোশাক কারখানাগুলোতে বেতন পরিশোধে অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব হয়েছে। পোশাক শিল্পের ৪০ লাখ শ্রমিককে ন্যায্যমূল্যে টিসিবি পণ্য বিক্রয় কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাক শিল্প কারখানাগুলোর জন্য বিএনবিসি-২০০৬-এর আলোকে স্টিল স্ট্রাকচারাল ভবনের জন্য ফায়ার রেজিসট্যান্স রেটিংএর বাধ্যবাধকতা শিথিল হয়েছে।

সরকারের এসব সহযোগিতা উল্লেখ করার পাশপাশি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আরো নতুন ১৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পোশাক শিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা, শিল্পে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কাস্টমস বন্দরের কাজ সহজতর ও দ্রুততর করা, পোশাক শিল্পকে ব্যবসাবান্ধব করতে যথাযথ নীতি সহায়তা প্রনয়ণের বিষয়ে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন, এ খাতের জন্য পৃথক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, বর্জ্য ঝুটসহ অন্যান্য রিসাইকেলিং উপযোগী অপসারণকে বাইরের প্রভাবমুক্ত রাখা এবং পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিরাপদ এক্সিট পলিসি’র ব্যবস্থা করার দাবি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনাসহ ১৪ দফা দাবি বিজিএমইএ’র

চ্যালেঞ্জ ডিঙ্গিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরেছে পোশাক শিল্পে

আপডেট সময় ১০:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪

পোশাক শিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ এক্সিট পলিসিসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে দেশে রপ্তানীমুখী তৈরী পোশিক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। একই সাথে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, “চ্যালেঞ্জ ডিঙ্গিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরেছে পোশাক শিল্পে”।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকায় উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্য়ায়ের সহযোগিতায় রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক খাত একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।

আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা এবং পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

বিজিএমইএর তথ্যানুসারে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যেখানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, সেখানে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর ভারতের ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বোঝা যায়, রপ্তানি আদেশ এসব দেশে চলে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্দিষ্ট কিছু শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের পোশাক খাতে ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি ডলারের রপ্তানি ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলেনে বলা হয়, সরকারের সহযোগিতায় পোশাক কারখানাগুলোতে বেতন পরিশোধে অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব হয়েছে। পোশাক শিল্পের ৪০ লাখ শ্রমিককে ন্যায্যমূল্যে টিসিবি পণ্য বিক্রয় কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাক শিল্প কারখানাগুলোর জন্য বিএনবিসি-২০০৬-এর আলোকে স্টিল স্ট্রাকচারাল ভবনের জন্য ফায়ার রেজিসট্যান্স রেটিংএর বাধ্যবাধকতা শিথিল হয়েছে।

সরকারের এসব সহযোগিতা উল্লেখ করার পাশপাশি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আরো নতুন ১৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পোশাক শিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা, শিল্পে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কাস্টমস বন্দরের কাজ সহজতর ও দ্রুততর করা, পোশাক শিল্পকে ব্যবসাবান্ধব করতে যথাযথ নীতি সহায়তা প্রনয়ণের বিষয়ে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন, এ খাতের জন্য পৃথক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, বর্জ্য ঝুটসহ অন্যান্য রিসাইকেলিং উপযোগী অপসারণকে বাইরের প্রভাবমুক্ত রাখা এবং পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিরাপদ এক্সিট পলিসি’র ব্যবস্থা করার দাবি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন