ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

নতুন খেজুর গুড় শীতেরএক অনন্য উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতকাল আমাদের জন্য প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। এ সময় বিভিন্ন ধরনের সুমিষ্ট ফল, খাবার এবং উৎসবের আবহ আমাদের জীবনকে রাঙিয়ে তোলে। শীতের সকালের খেজুর রসের গুড়ের পিঠা বা এক চামচ নলেন গুড় আমাদের শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।

নতুন খেজুর গুড় শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। বাংলাদেশের শীত মানেই খেজুরের রসের সুগন্ধ। ভোরবেলায় খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা রস দিয়ে তৈরি হয় পাটালি গুড়। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শীতের সকালে খেজুর রসের চা ও পিঠা যেন সবার মন মাতায়।

খেজুর গুড় শীতের এক অনন্য উপহার, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য। প্রতি বছর শীতকালে নতুন গুড় উৎপাদন এবং বাজারজাত শুরু হয়। এ সময়ে খেজুর গাছের রস থেকে তৈরি তাজা গুড় স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ চাহিদা সৃষ্টি করে।

খেজুর গুড়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বেশ সময় লাগে। প্রথমে রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুর গাছের কাণ্ড কেটে একটি মাটির হাঁড়ি লাগিয়ে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করা রস পরিষ্কার করে বড় পাতিলে জ্বাল দেওয়া হয়। জ্বালানোর সময় রস ঘন হয়ে গুড়ে পরিণত হয়। এরপর গুড় জমাট বাঁধার পর বিভিন্ন আকারে ঢেলে রাখা হয়, যেমন- পাটালি গুড়, নলেন গুড় ইত্যাদি।
প্রতি বছর নতুন খেজুর গুড়ের জন্য বাজারে বিশেষ উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় চাষিরা গুড় প্রস্তুত করে স্থানীয় হাট-বাজারে সরবরাহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব গুড় আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি হয়। নতুন গুড়ের দাম শীতের শুরুর দিকে একটু বেশি থাকে কিন্তু শীতের শেষ দিকে তা কমে আসে।

এ সব নতুন গুড় থেকে তৈরি হয় পুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধপুলি। শীতের দিনে এসব পিঠা যেন উৎসবের অনিবার্য অংশ। নানা রকমের স্বাদ ও ঘ্রাণে ভরা পিঠাগুলো বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। শীতকালীন পিঠা উৎসব আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি এসব উৎসবে খাবারের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন খেজুর গুড় শীতেরএক অনন্য উপহার

আপডেট সময় ০১:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

শীতকাল আমাদের জন্য প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। এ সময় বিভিন্ন ধরনের সুমিষ্ট ফল, খাবার এবং উৎসবের আবহ আমাদের জীবনকে রাঙিয়ে তোলে। শীতের সকালের খেজুর রসের গুড়ের পিঠা বা এক চামচ নলেন গুড় আমাদের শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।

নতুন খেজুর গুড় শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। বাংলাদেশের শীত মানেই খেজুরের রসের সুগন্ধ। ভোরবেলায় খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা রস দিয়ে তৈরি হয় পাটালি গুড়। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শীতের সকালে খেজুর রসের চা ও পিঠা যেন সবার মন মাতায়।

খেজুর গুড় শীতের এক অনন্য উপহার, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য। প্রতি বছর শীতকালে নতুন গুড় উৎপাদন এবং বাজারজাত শুরু হয়। এ সময়ে খেজুর গাছের রস থেকে তৈরি তাজা গুড় স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ চাহিদা সৃষ্টি করে।

খেজুর গুড়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বেশ সময় লাগে। প্রথমে রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুর গাছের কাণ্ড কেটে একটি মাটির হাঁড়ি লাগিয়ে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করা রস পরিষ্কার করে বড় পাতিলে জ্বাল দেওয়া হয়। জ্বালানোর সময় রস ঘন হয়ে গুড়ে পরিণত হয়। এরপর গুড় জমাট বাঁধার পর বিভিন্ন আকারে ঢেলে রাখা হয়, যেমন- পাটালি গুড়, নলেন গুড় ইত্যাদি।
প্রতি বছর নতুন খেজুর গুড়ের জন্য বাজারে বিশেষ উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় চাষিরা গুড় প্রস্তুত করে স্থানীয় হাট-বাজারে সরবরাহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব গুড় আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি হয়। নতুন গুড়ের দাম শীতের শুরুর দিকে একটু বেশি থাকে কিন্তু শীতের শেষ দিকে তা কমে আসে।

এ সব নতুন গুড় থেকে তৈরি হয় পুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধপুলি। শীতের দিনে এসব পিঠা যেন উৎসবের অনিবার্য অংশ। নানা রকমের স্বাদ ও ঘ্রাণে ভরা পিঠাগুলো বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। শীতকালীন পিঠা উৎসব আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি এসব উৎসবে খাবারের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন