ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি মানবিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এ দিবসটি উদযাপিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ (Together for Health, Stand with Science)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ—এই তিনটির সুস্থতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) ধারণার মাধ্যমে এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন এবং বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রসারে উৎসাহ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধাপে ধাপে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব হবে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দিবসটি ঘিরে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৪৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি মানবিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এ দিবসটি উদযাপিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ (Together for Health, Stand with Science)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ—এই তিনটির সুস্থতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) ধারণার মাধ্যমে এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন এবং বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রসারে উৎসাহ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধাপে ধাপে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব হবে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দিবসটি ঘিরে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন