ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে চান এস আলমের নিয়োগকৃত জাফর আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করেছে সরকার। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে ছয়জন ব্যাংক কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি জাফর আলম।

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় তিনি ব্যাংকটির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের। বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। এস আলমের নিয়ন্ত্রণকালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়, যখন জাফর আলম ব্যাংকের এমডি ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভার মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ এসআইবিএলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগের দিন রাতে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। পরে ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ১২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তার নিজ নামে ৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, বেনামি ২ হাজার ৮১২ কোটি টাকা এবং পরোক্ষ সুবিধার মাধ্যমে ২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এসব অর্থ ফেরত না আসায় ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়ে এবং পরে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে জাফর আলমও এসব অনিয়মে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি।

এছাড়া সাক্ষাৎকারে আরও অংশ নেন সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বাংলাদেশ শাখার প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সরকারি মালিকানাধীন হওয়ায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তত্ত্বাবধান করছে।

জানতে চাইলে জাফর আলম বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছিল। সাক্ষাৎকার ভালো হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আমাদের মতো অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া কঠিন।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে চান এস আলমের নিয়োগকৃত জাফর আলম

আপডেট সময় ১১:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করেছে সরকার। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে ছয়জন ব্যাংক কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি জাফর আলম।

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় তিনি ব্যাংকটির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের। বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। এস আলমের নিয়ন্ত্রণকালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়, যখন জাফর আলম ব্যাংকের এমডি ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভার মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ এসআইবিএলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগের দিন রাতে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। পরে ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ১২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তার নিজ নামে ৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, বেনামি ২ হাজার ৮১২ কোটি টাকা এবং পরোক্ষ সুবিধার মাধ্যমে ২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এসব অর্থ ফেরত না আসায় ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়ে এবং পরে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে জাফর আলমও এসব অনিয়মে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি।

এছাড়া সাক্ষাৎকারে আরও অংশ নেন সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বাংলাদেশ শাখার প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সরকারি মালিকানাধীন হওয়ায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তত্ত্বাবধান করছে।

জানতে চাইলে জাফর আলম বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছিল। সাক্ষাৎকার ভালো হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আমাদের মতো অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া কঠিন।

নিউজটি শেয়ার করুন