ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

সমাজ গবেষনা কেন্দ্রর ভার্চ্যুয়াল আলোচনা

স্বৈরশাসন ঠেকাতে ১১ দফা প্রস্তবনা বিশিষ্ট নাগরিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভবিষতে স্বৈরশাসন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সরকারের মেয়াদ হ্রাস করে ৫ বছর থেকে চার বছর করা করার কথা বলা হয়েছে (১২ অক্টোবর) শনিবার রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায়। ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনী’ বিষয়ে ওই আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ ও আনুপাতিক নির্বাচনের প্রবর্তনসহ ১১টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব করেছেন।


স্বৈরশাসন ঠেকাতে হলে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী পন্থা হবে আনুপাতিক নির্বাচন। এই পদ্ধতি প্রবর্তন করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। এই পদ্ধতিতে কী সুবিধা—এই পদ্ধতির জন্য সাধারণ জনমত গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।


রেহমান সোবহান
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, ‘যে সংস্কারই করা হোক না কেন, সবকিছু নির্ভর করে তা সত্যিকারভাবে বাস্তবায়ন করার ওপর। আর তা কার্যকর করবে রাজনৈতিক দল, যারা পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত হবে।’


রওনক জাহান
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো রওনক জাহান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে এত কথা বলছি, সেখানে কিন্তু আমরা আমাদের রাজনীতির সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার নিয়ে তেমন কথা হচ্ছে না। কিন্তু আসলে যদি আমরা দেশটাকে গণতান্ত্রিক করতে চাই তাহলে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র আনতে হবে।


রওনক জাহান বলেন, ‘আমরা যদি স্বৈরশাসনকে চেক দিতে চাই তাহলে সব থেকে বেশি কার্যকরী পন্থা হবে আনুপাতিক নির্বাচন। দেশের মানুষ এই পদ্ধতি নিয়ে অতটা ভালো জানে না। এই পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যরা এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। অতএব এই পদ্ধতিতে কী সুবিধা, এই পদ্ধতির জন্য সাধারণ জনমত গড়ে তোলবার জন্য এখানেও আমার মনে হয় এখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে হবে। যদি রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই তাহলে নন স্টেট অ্যাক্টরদের বড় একটা ভূমিকা আছে। তাঁদের ক্ষমতা, তাঁদের স্বাধীনতা রাখতে হবে। সেখানে মিডিয়া, বিশেষ করে নাগরিকের কণ্ঠস্বর সেটি যাতে কখনই রুদ্ধ না হয়, সেটার জন্য একটা ব্যবস্থা নিতে হবে।’


আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ১১টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের পর্যালোচনা তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশ আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এই নির্বাচন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে ক্রম অধিকার সম্পন্ন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। তারপর সারা দেশব্যাপী যে রাজনৈতিক দল যত শতাংশ ভোট পায় সংসদে তত শতাংশ আসন পায়।


অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
১১ টি সংস্কারের মধ্যে ৭টি সংস্কারের জন্যই আনুপাতিক নির্বাচন দরকার বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের বহু প্রস্তাব-আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আনুপাতিক নির্বাচনটা হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর। এটা করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে, সেটির দিকে নজর দেওয়া দরকার। রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব প্রস্তাবগুলো সাধারণভাবে আলোচিত হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন ছাড়াই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নবলিখন ও পুনর্লিখন নিয়ে কথা হচ্ছে, তবে তাদের যুক্তিটা পরিষ্কার নয়। রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে আলোচনা করতে হবে। যে সংস্কারগুলো করা উচিত, তার মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যদি নির্বাচন সংস্কার করি, আনুপাতিক নির্বাচন প্রবর্তন করতে পারি, তাহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর এক সঙ্গে কাজ করার যে অভ্যাসটা, সংস্কৃতিটা এবং বিরোধ সত্ত্বেও গঠনমূলকভাবে সেটি নিরসনের প্রয়াসের একটা প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। তাহলে ভবিষ্যতে এই সংবিধানের যে অন্য বড় যে ইস্যু আছে, তা নিরসনের সুযোগ হবে।’


বদিউল আলম মজুমদার
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন আনলেই হবে না। যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না ঘটে এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে যদি ঐকমত্য সৃষ্টি না হয় তাহলে এগুলো টেকসই হবে না। আমাদের রাজনীতিবিদেরা অতীতে অনেক অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। রাজনীতিবিদেরা যদি কথা না রাখে, তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি পরিবর্তন না হয় এবং তাদের মধ্যে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে যদি ঐকমত্য না হয় তাহলে আমরা যতই কাঠামোগত সংস্কার করি এগুলো টেকসই হবে না।’


মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘মেয়াদ হ্রাস করে চার বছর করার বিষয়ে একমত। প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন হলে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকা উচিত। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে। আর্থিক সক্ষমতার ব্যবস্থা না করে হলে এটি ভালো ফল দেবে না। সুতরাং একটি আইন করে দিতে হবে যে জাতীয় বাজেটের ৩০/৪০ শতাংশ বাজেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বডিতে (সরকারে) যাবে।’


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি তাজুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান এম এম আকাশের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহকারী সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন আলোচনায় অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সমাজ গবেষনা কেন্দ্রর ভার্চ্যুয়াল আলোচনা

স্বৈরশাসন ঠেকাতে ১১ দফা প্রস্তবনা বিশিষ্ট নাগরিকদের

আপডেট সময় ১২:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪


ভবিষতে স্বৈরশাসন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সরকারের মেয়াদ হ্রাস করে ৫ বছর থেকে চার বছর করা করার কথা বলা হয়েছে (১২ অক্টোবর) শনিবার রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায়। ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনী’ বিষয়ে ওই আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ ও আনুপাতিক নির্বাচনের প্রবর্তনসহ ১১টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব করেছেন।


স্বৈরশাসন ঠেকাতে হলে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী পন্থা হবে আনুপাতিক নির্বাচন। এই পদ্ধতি প্রবর্তন করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। এই পদ্ধতিতে কী সুবিধা—এই পদ্ধতির জন্য সাধারণ জনমত গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।


রেহমান সোবহান
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, ‘যে সংস্কারই করা হোক না কেন, সবকিছু নির্ভর করে তা সত্যিকারভাবে বাস্তবায়ন করার ওপর। আর তা কার্যকর করবে রাজনৈতিক দল, যারা পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত হবে।’


রওনক জাহান
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো রওনক জাহান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে এত কথা বলছি, সেখানে কিন্তু আমরা আমাদের রাজনীতির সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার নিয়ে তেমন কথা হচ্ছে না। কিন্তু আসলে যদি আমরা দেশটাকে গণতান্ত্রিক করতে চাই তাহলে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র আনতে হবে।


রওনক জাহান বলেন, ‘আমরা যদি স্বৈরশাসনকে চেক দিতে চাই তাহলে সব থেকে বেশি কার্যকরী পন্থা হবে আনুপাতিক নির্বাচন। দেশের মানুষ এই পদ্ধতি নিয়ে অতটা ভালো জানে না। এই পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যরা এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। অতএব এই পদ্ধতিতে কী সুবিধা, এই পদ্ধতির জন্য সাধারণ জনমত গড়ে তোলবার জন্য এখানেও আমার মনে হয় এখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে হবে। যদি রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই তাহলে নন স্টেট অ্যাক্টরদের বড় একটা ভূমিকা আছে। তাঁদের ক্ষমতা, তাঁদের স্বাধীনতা রাখতে হবে। সেখানে মিডিয়া, বিশেষ করে নাগরিকের কণ্ঠস্বর সেটি যাতে কখনই রুদ্ধ না হয়, সেটার জন্য একটা ব্যবস্থা নিতে হবে।’


আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ১১টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের পর্যালোচনা তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশ আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এই নির্বাচন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে ক্রম অধিকার সম্পন্ন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। তারপর সারা দেশব্যাপী যে রাজনৈতিক দল যত শতাংশ ভোট পায় সংসদে তত শতাংশ আসন পায়।


অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
১১ টি সংস্কারের মধ্যে ৭টি সংস্কারের জন্যই আনুপাতিক নির্বাচন দরকার বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের বহু প্রস্তাব-আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আনুপাতিক নির্বাচনটা হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর। এটা করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে, সেটির দিকে নজর দেওয়া দরকার। রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব প্রস্তাবগুলো সাধারণভাবে আলোচিত হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন ছাড়াই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নবলিখন ও পুনর্লিখন নিয়ে কথা হচ্ছে, তবে তাদের যুক্তিটা পরিষ্কার নয়। রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে আলোচনা করতে হবে। যে সংস্কারগুলো করা উচিত, তার মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যদি নির্বাচন সংস্কার করি, আনুপাতিক নির্বাচন প্রবর্তন করতে পারি, তাহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর এক সঙ্গে কাজ করার যে অভ্যাসটা, সংস্কৃতিটা এবং বিরোধ সত্ত্বেও গঠনমূলকভাবে সেটি নিরসনের প্রয়াসের একটা প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। তাহলে ভবিষ্যতে এই সংবিধানের যে অন্য বড় যে ইস্যু আছে, তা নিরসনের সুযোগ হবে।’


বদিউল আলম মজুমদার
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন আনলেই হবে না। যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না ঘটে এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে যদি ঐকমত্য সৃষ্টি না হয় তাহলে এগুলো টেকসই হবে না। আমাদের রাজনীতিবিদেরা অতীতে অনেক অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। রাজনীতিবিদেরা যদি কথা না রাখে, তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি পরিবর্তন না হয় এবং তাদের মধ্যে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে যদি ঐকমত্য না হয় তাহলে আমরা যতই কাঠামোগত সংস্কার করি এগুলো টেকসই হবে না।’


মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘মেয়াদ হ্রাস করে চার বছর করার বিষয়ে একমত। প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন হলে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকা উচিত। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে। আর্থিক সক্ষমতার ব্যবস্থা না করে হলে এটি ভালো ফল দেবে না। সুতরাং একটি আইন করে দিতে হবে যে জাতীয় বাজেটের ৩০/৪০ শতাংশ বাজেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বডিতে (সরকারে) যাবে।’


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি তাজুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান এম এম আকাশের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহকারী সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন আলোচনায় অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন