সুদ মওকুফ ও ঋণ রিসিডিউল করার দাবি চামড়া ব্যবসায়ীদের
সাভারের চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) ঠিক করে দেওয়াসহ সুদ মওকুফ করে ঋণ রিসিডিউল করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। একইসঙ্গে মিথ্যা বলে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে চামড়া ব্যবসায়ীদের সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
রোববার (৬ অক্টোবার) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন এবং প্রধান উপদেষ্টা এম এ রাশিদ ভূঁইয়া।
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা এম এ রাশিদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমরা টাকা পয়সা চায়নি। আপনারা জানেন আমাদের হাজারীবাগ থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল সাভারে। আমাদের এই জায়গাগুলোকে (হাজারীবাগ) রেড জোন দিয়ে রেখেছিল।
তিনি বলেন, আমরা ওখানে (সাভারে) গিয়ে ব্যবসা করতে পারিনি। সিইটিপি ঠিক নেই। আগে যা বলেছিল সব মিথ্যা কথা বলেছিল। কোনো অবকাঠামো ঠিক হয়নি, আমাদের নিয়ে গেছে। এখন অর্থ উপদেষ্টার কাছে বিষয়গুলো জানিয়েছি। তারা সমাধান করবেন আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
আপনারা কি দাবি জানিয়েছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আমাদের দাবি সিইটিপি ঠিক করে দেওয়া। তাদের কারণেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে সুদ মওকুফ করে আমাদের ঋণ রিসিডিউল করে দেওয়ার কথা বলেছি।
এরপর বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন সাংবাদিকদের বলেন, বিসিক শিল্প নগরিতে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। আমরা রপ্তানি করব এজন্যই আমাদের সমস্তরকমের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সিইটিপি অসম্পূর্ণ থাকার কারণে বর্তমানে আন্তর্জাতিক যে বাজার দর আছে আমরা তার থেকে ৭০-৮০ শতাংশ কম দামে চীনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা যদি এটার ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে পারি, তাহলে আগের জায়গায় যেমন ২০১৫-২০১৬ সালে দুই হাজার টাকায় চামড়া কিনতাম, আমরা আবার সেই জায়গায় যেতে পারবো।
তিনি বলেন, বিসিক শিল্প নগরিতে ট্যানারি মালিকদের যে অংশগ্রহণ সেটা যথার্থই ছিল। ব্যর্থ যেটা হয়েছে, সেটা সরকারি প্রতিষ্ঠান বিসিকের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই ব্যর্থতার দায়তার কোনো অবস্থাতেই ট্যানারি মালিকদের ওপর বর্তায় না। অর্থ উপদেষ্টা আমাদের কথা শুনেছেন। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।


















