ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্য়স্ত, হেড লাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি
শীতের মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর রাজধানীসহ সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ভোরবেলায় কুয়াশা পড়া অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের উত্তর অঞ্চলে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে।
ঘন কুয়ার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তিন ঘণ্টা পর থেকে আবার ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে গাড়ি চলচল বিঘ্নিত হচ্ছে। হেড লাইট জ্বালিয়ে চলছে বড় যান বাহন।
বঙ্গোপসাগর এলাকায় লঘুচাপ বিরাজমান রয়েছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণপূর্ব রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সকাল ৭টার দিকে নিশ্চিত করেন-বিআইডব্লিউটিসি‘র দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাট কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়-মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৬টার দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করে পরে ঘন কুয়াশার পরিমাণ বেড়ে গেলে ফেরি চলাচলের চ্যানেলের বিকন বাতি ও মার্কিং পয়েন্টের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ঘনকুয়াশায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সে. হ্রাস পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বর্ধিত ৫ (পাঁচ) দিনের আবহাওয়ার অবস্থা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
উত্তরের জেলা রাজশাহীতে শীত নেমেছে, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রকৃতি ঢেকে রয়েছে কুয়াশায়।
এমন অবস্থায় ঝরেছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। শুধু তাই নয়, কয়েক দিন থেকে বিকালের পর থেকেই অনুভূত হচ্ছে শীত। সন্ধ্যা থেকে বইছে হিমেল হাওয়া; ফলে আরও শীত বাড়ছে।
এরই মধ্যে রাজশাহী নগরের ফুটপাথগুলোতে গরম কাপড়ের দোকান বসেছে। সেখানে ভিড় বাড়ছে মানুষের। শীতের কষ্ট লাঘব করতে মধ্যবিত্ত, নিম্নআয়ের মানুষের কিনছেন শীতের পোষাক।
এ দিকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে দিনাজপুর। সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। নিতান্তই প্রয়োজন কিংবা জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষের দেখা মিলছে পথে-ঘাটে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ। জেলায় চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘনকুয়াশায় তাপমাত্রা কম ও হিমেল বাতাসের প্রভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। খেটে খাওয়া মানুষের বাড়ছে দুর্ভোগ। তারা ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না। ফলে উপার্জনে ভাটা পড়তে শুরু করেছে।










