ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ:
একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ৪ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২ দিন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিলো পদ্মা অয়েল বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা

টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলন

৫১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি সড়ক উন্নয়নে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)। ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারেরটিানা তিন মেয়াদের ১৪ বছরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গবেষনায় আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির এ তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়,  ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়ক ও সেতু খাতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই অর্থের মধ্যে সার্বিকভাবে দুর্নীতির হার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ; যা টাকার অঙ্কে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে ‘সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই গবেষক মো. মোস্থফা কামাল ও মো. জুলকারনাইনসহ টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে রাজনীতিবিদ, আমলা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাত রয়েছে। একেবারে নিম্নপর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত এসব দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

তিনি বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে ঘুষ লেনদেনে ২৩-৪০ শতাংশ অর্থ লোপাট হয়। ত্রিপক্ষীয় ‘সিন্ডিকেট’ (চক্র) ভাঙতে না পারলে দুর্নীতিবিরোধী কোন কার্যক্রম সফল হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে সওজের উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ১৬৯,৪৪৯ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা বা ১৬৯ কোটি টাকা। ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় বিশ্লেষণ; ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি অবকাঠামোট স্থানান্তর, বেতন-ভাতা, যানবাহন, স্টেশনারি ইত্যাদি ব্যয় ব্যতীত উন্নয়ন প্রকল্পের শুধু নির্মাণ বা উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের প্রাক্কলিত গড় ব্যয়ের হার ৭৫ শতাংশ। এ ব্যয়ের পরিমাণ ১২৭ কোটি টাকা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের নানা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে অনেক তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা, যেসব তথ্য প্রকাশযোগ্য, সেগুলো যেন প্রকাশ করা হয়। তবে বাস্তব কথা হলো প্রতিষ্ঠানে কিছু ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে, তবে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার তো পরিবর্তন হয়নি। তাই রাতারাতি পরিবর্তন আশা করছি না।

তিনি আরও বলেন, তাদের গবেষণা প্রতিবেদন শুধু দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতেও কমবেশি দুর্নীতি হয়েছে। দেশীয় আমলাতন্ত্রের সঙ্গে বিদেশি আমলাতন্ত্রের যোগসাজশ হয়েছে।

এছাড়া, সড়ক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ১৬টি সুপারিশও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলন

৫১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি সড়ক উন্নয়নে

আপডেট সময় ০১:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)। ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারেরটিানা তিন মেয়াদের ১৪ বছরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গবেষনায় আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির এ তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়,  ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়ক ও সেতু খাতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই অর্থের মধ্যে সার্বিকভাবে দুর্নীতির হার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ; যা টাকার অঙ্কে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে ‘সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই গবেষক মো. মোস্থফা কামাল ও মো. জুলকারনাইনসহ টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে রাজনীতিবিদ, আমলা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাত রয়েছে। একেবারে নিম্নপর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত এসব দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

তিনি বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে ঘুষ লেনদেনে ২৩-৪০ শতাংশ অর্থ লোপাট হয়। ত্রিপক্ষীয় ‘সিন্ডিকেট’ (চক্র) ভাঙতে না পারলে দুর্নীতিবিরোধী কোন কার্যক্রম সফল হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে সওজের উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ১৬৯,৪৪৯ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা বা ১৬৯ কোটি টাকা। ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় বিশ্লেষণ; ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি অবকাঠামোট স্থানান্তর, বেতন-ভাতা, যানবাহন, স্টেশনারি ইত্যাদি ব্যয় ব্যতীত উন্নয়ন প্রকল্পের শুধু নির্মাণ বা উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের প্রাক্কলিত গড় ব্যয়ের হার ৭৫ শতাংশ। এ ব্যয়ের পরিমাণ ১২৭ কোটি টাকা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের নানা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে অনেক তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা, যেসব তথ্য প্রকাশযোগ্য, সেগুলো যেন প্রকাশ করা হয়। তবে বাস্তব কথা হলো প্রতিষ্ঠানে কিছু ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে, তবে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার তো পরিবর্তন হয়নি। তাই রাতারাতি পরিবর্তন আশা করছি না।

তিনি আরও বলেন, তাদের গবেষণা প্রতিবেদন শুধু দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতেও কমবেশি দুর্নীতি হয়েছে। দেশীয় আমলাতন্ত্রের সঙ্গে বিদেশি আমলাতন্ত্রের যোগসাজশ হয়েছে।

এছাড়া, সড়ক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ১৬টি সুপারিশও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

নিউজটি শেয়ার করুন