ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ:

হরমুজ প্রণালীর সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি কমেছে অন্তত ৬০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট উত্তেজনা ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক তেল রপ্তানি অন্তত ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এ অঞ্চলে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি বড় উৎপাদক দেশ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ জাহাজে তেল পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এবং কিছু তেলক্ষেত্রে উৎপাদনও বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—থেকে অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের গড় রপ্তানি ছিল দৈনিক ৯ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ব্যারেল। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এ সংখ্যা ছিল দৈনিক ২৫ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল।

কেপলারের বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল জানান, “এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের ভাসমান মজুত ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল।”

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালীর সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি কমেছে অন্তত ৬০ শতাংশ

আপডেট সময় ০৩:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট উত্তেজনা ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক তেল রপ্তানি অন্তত ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এ অঞ্চলে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি বড় উৎপাদক দেশ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ জাহাজে তেল পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এবং কিছু তেলক্ষেত্রে উৎপাদনও বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—থেকে অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের গড় রপ্তানি ছিল দৈনিক ৯ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ব্যারেল। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এ সংখ্যা ছিল দৈনিক ২৫ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল।

কেপলারের বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল জানান, “এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের ভাসমান মজুত ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল।”

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন