গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের শঙ্কা
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (আরইবি) বৈষমবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিচ্যুতি, ধর-পাকড় ও মামলায় আতঙ্কে কর্মস্থলে গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অবস্থান করতে পারছেন না নিজ নিজ বাসা বাড়িতেও। এমন অবস্থায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন ও অনিয়মিতদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে ২০ জন চাকরিচ্যুত হয়েছেন। ১০ জনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ৬ জনের নামে মামলা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমোতি দিয়েছে আদালত। কর্মসূচি প্রত্যাহারের পরও রাতেই আরও ৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
পল্লী বিদ্যুত সমিতির পৃথক পৃথক সূত্র জানায়, আরইবির মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুতির আদেশ বাতিলের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি পূরণে আলোচনা এবং আটকদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
কিন্তু, বাস্তবে ভিন্ন ঘটনা ঘটছে। সমিতির কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন সমিতিতে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা চলছে।
এদিকে কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম বিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ১৮ অক্টোবর আন্দোলনের সমন্বয়ক এজিএম আব্দুল হাকিম ও এজিএম সালাউদ্দিন আহমেদ যৌথ স্বাক্ষর দিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন।
এই দুই নেতা বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রাহকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিংবা জবাবদিহিতা না থাকায় আরইবি কর্তৃক সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয় করে ভঙ্গুর বিতরণ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বোর্ডের অনিয়ম ও অদক্ষতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। তবে সব দায় বহন নিতে হয় সমিতিগুলোকে। সমিতিগুলোকেও শোষণ করা হয় বিভিন্ন পন্থায়। আরইবির এ ধরণের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মূলত আন্দোলন করছে।
দাবী আদায়ের আন্দোলনে সৃষ্ট সংকটের সমাধান না করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের হয়রানির কারণে ও মামলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই কর্মস্থলে অবস্থান করার সাহস পাচ্ছেন না। এই অবস্থা চলতে থাকলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও বিবৃতিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত রাখার স্বার্থে কর্মীদের কর্মস্থলে অবস্থান করা প্রয়োজন। সে জন্য তারা সরকারের হস্তক্ষেপও চাওয়ার পাশপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর দায়ভার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বহন করবে না বলেও আগাম নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।










